বাংলাদেশ জন্ম নিবন্ধন সনদ সম্পূর্ণ গাইড (আবেদন, চেক, যাচাই, ডাউনলোড ও সংশোধন)

জন্ম নিবন্ধন চেক বা জন্ম সনদ চেক করা কিন্তু একদমই ইজি। এর মাধ্যমে আপনি খুব সহজে দেখে নিতে পারবেন আপনার জন্ম নিবন্ধনের তথ্য জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন তথ্য সিস্টেম (BDRIS)-এ আছে কিনা।

এজন্য কোনো টাকা লাগবে না, অফিসিয়াল ভেরিফিকেশন ওয়েবসাইট থেকে একদম ফ্রিতেই জন্ম নিবন্ধন চেক করতে পারবেন। জাস্ট আপনার ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নাম্বার (BRN) আর জন্ম তারিখটা বসাবেন, সাথে সাথেই দেখতে পাবেন আপনার সনদটা আসল কিনা।

আর হ্যাঁ, যদি জন্ম নিবন্ধনের কপি ডাউনলোড করতে চান, কোনো ভুল সংশোধন করতে চান অথবা নতুন করে নিবন্ধনের আবেদন করতে চান, সেই কাজগুলো কিন্তু আলাদাভাবে bdris.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে করতে হবে।

জন্ম নিবন্ধন চেক করার নিয়ম

সরকারি ভেরিফিকেশন পোর্টাল থেকে আপনি খুব সহজেই অনলাইনে আপনার জন্ম নিবন্ধন চেক করতে পারবেন।

জন্ম নিবন্ধন চেক করতে যা যা লাগবে

অনলাইনে জন্ম সনদ চেক করা শুরু করার আগে নিচের তথ্যগুলো হাতের কাছে রাখেন। এজন্য কোনো কাগজপত্র বা টাকা লাগবে না।

যা লাগবে

বিস্তারিত

১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নাম্বার (BRN)

আপনার জন্ম সনদে যে নাম্বারটা লেখা আছে। পুরো ১৭ ডিজিটই দিতে হবে।

জন্ম তারিখ

জাস্ট YYYY-MM-DD (বছর-মাস-দিন) ফরম্যাটে দিবেন।

সরকারি পোর্টালে জন্ম নিবন্ধন চেক

আপনার জন্ম সনদটা সরকারি ডাটাবেজে আছে কিনা এবং জন্ম নিবন্ধনের তথ্য ঠিকমতো ডিজিটাল করা হয়েছে কিনা, সেটা জানতে নিচের ধাপগুলো ফলো করেন।

ধাপ ১: BDRIS পোর্টালে যান

ব্রাউজারে everify.bdris.gov.bd লিখে সরকারি জন্ম নিবন্ধন ভেরিফিকেশন পোর্টালে চলে যান।

আপনার ব্যক্তিগত তথ্য নিরাপদ রাখতে সবসময় এই সরকারি পোর্টালটাই ব্যবহার করবেন। কোনো আনঅফিসিয়াল বা ভুয়া ওয়েবসাইটে কিন্তু জন্ম নিবন্ধন নাম্বার দিবেন না।

ধাপ ২: ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নাম্বার দিন

প্রথম বক্সে (Birth Registration Number) জন্ম সনদে যেভাবে লেখা আছে, ঠিক সেভাবেই পুরো ১৭ ডিজিটের নাম্বারটা বসান। মাঝে কোনো স্পেস, ড্যাশ বা বাড়তি কিছু দিবেন না।

নাম্বার লেখার সময় কিবোর্ডটা ইংরেজি সংখ্যায় (123) রাখবেন। বাংলা সংখ্যায় (১২৩) লিখলে কিন্তু জন্ম নিবন্ধন চেক হবে না।

ধাপ ৩: জন্ম তারিখ দিন

দ্বিতীয় বক্সে (Date of Birth) YYYY-MM-DD ফরম্যাটে আপনার জন্ম তারিখটা দেন।

উদাহরণ:

  • যদি জন্ম তারিখ হয় ৫ মার্চ ১৯৯৫, তাহলে লিখবেন: 1995-03-05
  • মাস বা দিন এক ডিজিটের হলে সামনে একটা 0 বসাবেন। যেমন: 1995-3-5 না লিখে লিখবেন 1995-03-05

জন্ম নিবন্ধনের সময় যে জন্ম তারিখ দেওয়া হয়েছিল, ঠিক সেটাই দিবেন। NID বা পাসপোর্টের তারিখ যদি আলাদা হয়, সেটা দিবেন না।

ধাপ ৪: ক্যাপচা পূরণ করুন

আপনি যে রোবট না, সেটা প্রমাণ করতে ছবিতে দেখানো ছোট অংকটার সঠিক উত্তর বসাবেন।

যেমন: “34 + 19 = ?” অথবা “60 − 31 = ?”

উত্তর ভুল হলে বা ছবিটা পড়া না গেলে রিফ্রেশ আইকনে ক্লিক করেন, নতুন একটা ক্যাপচা চলে আসবে।

ধাপ ৫: Search বাটনে ক্লিক করে রেজাল্ট দেখুন

এবার Search বাটনে ক্লিক করেন।

সব তথ্য ঠিক থাকলে সাথে সাথেই আপনার জন্ম নিবন্ধনের পুরো তথ্য স্ক্রিনে চলে আসবে।

মোবাইল দিয়ে জন্ম নিবন্ধন সনদ কীভাবে চেক করবেন?

এজন্য কোনো মোবাইল অ্যাপ ইনস্টল করার দরকার নেই। অফিসিয়াল ভেরিফিকেশন পোর্টালটা যেকোনো স্মার্টফোনের ব্রাউজারেই কাজ করে।

  • আপনার মোবাইলের ব্রাউজার ওপেন করেন (Chrome, Firefox বা যেকোনো ব্রাউজার)।
  • everify.bdris.gov.bd-তে চলে যান।
  • উপরে বলা ধাপগুলোই একইভাবে ফলো করেন।

পোর্টালটা মোবাইল-ফ্রেন্ডলি, তাই সব স্মার্টফোনেই কিন্তু ঠিকঠাক কাজ করে।

আপনার জন্ম নিবন্ধনের রেকর্ড আছে কিনা নিশ্চিত হতে চান? অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন সনদ চেক ও যাচাই করার পুরো গাইডটা ফলো করেন।

SMS দিয়ে জন্ম নিবন্ধন চেক

না। জন্ম নিবন্ধন যাচাই করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের কোনো অফিসিয়াল SMS সার্ভিস নেই। অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন চেক করার একমাত্র অনুমোদিত উপায় হচ্ছে অফিসিয়াল BDRIS পোর্টাল।

১৬১৫২ শর্টকোড দিয়ে কি চেক করা যায়?

না আপনি হয়তো ১৬১৫২ শর্টকোডের কথা শুনেছেন। এই নাম্বারটা জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের সাথে জড়িত ঠিকই, কিন্তু এটা সাধারণ জিজ্ঞাসা আর তথ্য জানার জন্য ব্যবহার করা হয়, কোনো নির্দিষ্ট সনদ আসল কিনা সেটা যাচাই করার জন্য না। তাই এই নাম্বার দিয়ে আপনি জন্ম সনদ সঠিক কিনা সেটা কনফার্ম করতে পারবেন না।

QR কোড দিয়ে জন্ম নিবন্ধন চেক

আপনার জন্ম সনদে যদি QR কোড থাকে, তাহলে মোবাইলের ক্যামেরা দিয়ে জাস্ট সেটা স্ক্যান করেন। স্ক্যান করার পর কোনো লিংক আসলে, ওপেন করার আগে দেখে নিবেন লিংকটা অফিসিয়াল BDRIS ভেরিফিকেশন ওয়েবসাইটে যাচ্ছে কিনা। এরপর স্ক্রিনে যে তথ্য দেখাবে, সেটা আপনার সনদের সাথে মিলিয়ে দেখেন, তাহলেই কোনো অমিল থাকলে বুঝতে পারবেন।

নোট: অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন যাচাই করা একদম ফ্রি। BDRIS ভেরিফিকেশন পোর্টালে কোনো টাকা ছাড়াই আপনি আপনার তথ্য চেক করতে পারবেন। তবে নতুন নিবন্ধন, সংশোধন বা আবার প্রিন্ট করার মতো অন্যান্য সার্ভিসের জন্য কিন্তু ফি দিতে হয়।

জন্ম নিবন্ধন চেকের রেজাল্টের মানে কী?

BDRIS পোর্টালে যখন ভেরিফিকেশন রেজাল্ট দেখায়, তখন আপনি বুঝতে পারবেন আপনার জন্ম নিবন্ধনের তথ্য সরকারি ডাটাবেজে আছে কিনা, আর সেই তথ্য আপনার সনদের সাথে মিলছে কিনা।

ভেরিফিকেশন রেজাল্টএর মানে কীআপনার যা করা উচিত
Record Foundঅনলাইন ডাটাবেজে আপনার দেওয়া তথ্যের সাথে মিলে এমন জন্ম নিবন্ধনের রেকর্ড পাওয়া গেছে।স্ক্রিনে যে তথ্য দেখাচ্ছে, সেটা আপনার জন্ম সনদের সাথে মিলিয়ে দেখেন। কোনো ভুল পেলে আপনার এলাকার জন্ম নিবন্ধন অফিসে যোগাযোগ করেন।
Record Not Foundআপনার দেওয়া তথ্য দিয়ে পোর্টাল কোনো মিল থাকা রেকর্ড খুঁজে পায়নি। তবে এর মানে কিন্তু এই না যে আপনার সনদটা ভুয়া।আপনার ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নাম্বার আর জন্ম তারিখটা আরেকবার চেক করেন। পোর্টালে টেকনিক্যাল সমস্যা থাকলে কিছুক্ষণ পরে আবার চেষ্টা করেন। তারপরেও সমস্যা থাকলে সংশ্লিষ্ট জন্ম নিবন্ধন অফিসে যোগাযোগ করেন।

যাচাই করা জন্ম নিবন্ধনের কপি কীভাবে ডাউনলোড বা প্রিন্ট করবেন

বাংলাদেশে আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদ ডাউনলোড বা প্রিন্ট করতে চাইলে, আপনি BDRIS-এর অফিসিয়াল যাচাই পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে আপনার জন্ম নিবন্ধনের তথ্য দেখতে পারেন।

জন্ম নিবন্ধন নম্বর এবং জন্ম তারিখ ব্যবহার করে আপনি আপনার নিবন্ধনের তথ্য দেখতে এবং উপলব্ধ রেকর্ডটি প্রিন্ট করতে পারবেন।

মোবাইল ফোন বা কম্পিউটার ব্যবহার করে কীভাবে জন্ম নিবন্ধন সনদ ডাউনলোড করবেন, PDF হিসেবে সংরক্ষণ করবেন অথবা প্রিন্ট করবেন, তা ধাপে ধাপে জানতে আমাদের বিস্তারিত গাইডটি দেখুন:

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন সনদ ডাউনলোড

নোট: এই প্রিন্ট কপিতে আপনার জন্ম নিবন্ধন যাচাইয়ের ফলাফল দেখানো হয়েছে। এটি কোনো সরকারি জন্ম সনদ নয়। বাংলা ও ইংরেজিতে সনদের সত্যায়িত কপি পেতে bdris.gov.bd ওয়েবসাইটে পুনর্মুদ্রণের জন্য আবেদন করুন (ফি: ৫০ টাকা) এবং আপনার নিবন্ধকের কার্যালয় থেকে সনদ সংগ্রহ করুন। কিছু কার্যালয়ে যাচাইয়ের জন্য এই প্রিন্ট কপি গ্রহণ করা হতে পারে। তাই আগে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হয়ে নিন।

বাংলাদেশে অনলাইনে জন্ম নিবন্ধনের আবেদন কীভাবে করবেন

বাংলাদেশে নতুন জন্ম সনদের জন্য আবেদন করতে চাইলে আপনি ঘরে বসেই অনলাইনে প্রসেসটা শুরু করতে পারবেন। তবে আপনার আবেদনের ধরন অনুযায়ী বাড়তি কাগজপত্র লাগতে পারে, আবার অফিসেও যেতে হতে পারে।

নিচের সহজ ধাপগুলো ফলো করেন:

  • অফিসিয়াল পোর্টাল ওপেন করেন: BDRIS আবেদন ওয়েবসাইটে চলে যান।
  • আবেদন ফর্ম পূরণ করেন: আপনার জন্য প্রযোজ্য নিবন্ধনের অপশনটা সিলেক্ট করেন, তারপর আবেদনকারীর ব্যক্তিগত তথ্য আর বাবা-মায়ের তথ্য দেন।
  • প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রেডি রাখেন: আবেদনকারীর বয়স আর অবস্থা অনুযায়ী যে কাগজপত্র লাগবে, সেগুলো রেডি করে রাখেন।
  • আবেদন সাবমিট করেন: সব তথ্য আরেকবার চেক করে পোর্টালের নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদনটা সাবমিট করেন।
  • নিবন্ধন অফিসে যান: প্রিন্ট করা ফর্ম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে আপনার নিবন্ধকের কার্যালয়ে জমা দিন।

পুরো প্রসেসটা জানতে চান? প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, আবেদনের ধাপ আর ফি সহ বাংলাদেশে অনলাইনে জন্ম নিবন্ধনের আবেদন কীভাবে করবেন, সেটা নিয়ে আমাদের বিস্তারিত গাইডটা পড়ে নিন।

জন্ম নিবন্ধনের তথ্য কীভাবে সংশোধন করবেন

আপনার জন্ম সনদে যদি কোনো ভুল তথ্য থাকে, যেমন নামের বানান ভুল, ভুল জন্ম তারিখ অথবা বাবা-মায়ের তথ্যে ভুল, তাহলে আপনাকে সংশোধনের জন্য আবেদন করতে হতে পারে। এক্ষেত্রে সঠিক তথ্য প্রমাণ করার জন্য অবশ্যই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিতে হবে।

আর যদি সনদের তথ্য ঠিক থাকে কিন্তু সনদটা হারিয়ে যায় বা নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে আপনার লাগবে রিপ্রিন্ট। আবার যদি কখনো নিবন্ধনই না করে থাকেন, তাহলে নতুন নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে হবে। সঠিক সার্ভিসটা বেছে নিলে অযথা দেরি আর ডুপ্লিকেট রেকর্ডের ঝামেলা থেকে কিন্তু বেঁচে যাবেন।

আবেদনের প্রসেস, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আর ফি সম্পর্কে জানতে বাংলাদেশের জন্ম সনদের ভুল কীভাবে সংশোধন করবেন, সেটা নিয়ে আমাদের বিস্তারিত গাইডটা পড়ে নিন।

অনলাইনে জন্ম সনদ খুঁজে না পেলে কী করবেন?

অনলাইনে আপনার জন্ম সনদ খুঁজে না পেলে, সাধারণত নিচের কোনো একটা কারণেই এমন হয়।

০১. জন্ম নিবন্ধন নাম্বার (BRN) বা জন্ম তারিখ ভুল

আপনার ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নাম্বারটা ঠিকমতো দিয়েছেন কিনা আরেকবার চেক করেন, আর জন্ম তারিখটা YYYY-MM-DD ফরম্যাটে দিয়েছেন কিনা সেটাও দেখে নিন।

০২. আপনার জন্ম নিবন্ধনের তথ্য এখনো ডিজিটাল করা হয়নি

আপনার পুরোনো হাতে লেখা জন্ম নিবন্ধন অনলাইনে অন্তর্ভুক্ত না হয়ে থাকলে, সনদটি যে কার্যালয় থেকে ইস্যু করা হয়েছিল, সেখানে নিয়ে যান। কার্যালয়ের রেজিস্টারে আপনার তথ্য থাকলে, নিবন্ধক সেটি অনলাইনে নিবন্ধন করবেন এবং আপনি একটি নতুন ১৭ সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন নম্বর পাবেন।

০৩. আপনার জন্ম নিবন্ধন নাম্বার জানা নেই

BDRIS পোর্টালে কিন্তু নাম দিয়ে সার্চ করার সুযোগ নেই। আপনার জন্ম নিবন্ধন নাম্বার হারিয়ে গেলে, যে অফিস থেকে প্রথমে জন্ম নিবন্ধন করা হয়েছিল সেখানে যোগাযোগ করে নাম্বারটা উদ্ধার করে নিন।

০৪. BDRIS সার্ভারে সাময়িক সমস্যা

পোর্টাল ওপেন না হলে বা কাজ না করলে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেন, তারপর আবার চেষ্টা করেন।

১৭ সংখ্যার কম জন্ম নিবন্ধন নম্বর কীভাবে ১৭ সংখ্যায় উন্নীত করা যায়?

জন্ম নিবন্ধন চেক করার জন্য যদি আপনার ১৫ বা ১৬ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নাম্বার (BRN) ১৭ ডিজিটে কনভার্ট করতে চান, তাহলে ম্যানুয়াল কনভার্সন পদ্ধতিটা ট্রাই করে দেখতে পারেন, অনলাইন ভেরিফিকেশন পোর্টালে কাজ করে কিনা। তবে সঠিক ১৭ ডিজিটের নাম্বার পাওয়ার অফিসিয়াল উপায় হচ্ছে আপনার এলাকার জন্ম নিবন্ধন অফিসের সাহায্যে BDRIS সিস্টেম থেকে নাম্বারটা নেওয়া।

সঠিক ১৭ ডিজিটের নাম্বার থাকলে আপনি অনলাইনে খুব সহজেই জন্ম নিবন্ধনের তথ্য চেক করতে পারবেন, আর ভেরিফিকেশনের ঝামেলাও এড়াতে পারবেন।

সরকারি পদ্ধতি: নিবন্ধকের কার্যালয় থেকে ১৭ সংখ্যার নম্বর সংগ্রহ করুন

ORGBDR-এর প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলি (FAQ, এপ্রিল ২০২৬-এ হালনাগাদ) অনুযায়ী, আপনার পুরোনো জন্ম সনদটি যে কার্যালয়ে জন্ম নিবন্ধন করা হয়েছিল, সেখানে নিয়ে যান। কার্যালয় থেকে আপনাকে ১৭ সংখ্যার নম্বরযুক্ত জন্ম সনদ দেওয়া হবে। যেকোনো নিবন্ধন সেবার মতো, এ ক্ষেত্রেও নিজের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করুন।

আপনার জন্ম নিবন্ধনের তথ্য অনলাইনে অন্তর্ভুক্ত না থাকলে, নিবন্ধক কার্যালয়ের রেজিস্টার বই থেকে তথ্য নিয়ে অনলাইনে নিবন্ধন করবেন। এ ক্ষেত্রে আপনি একটি নতুন ১৭ সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন নম্বর পাবেন, কারণ পুরোনো নম্বরটি অপরিবর্তিত রেখে ব্যবহার করা সম্ভব নয়।

১৭টি সংখ্যার অর্থ কী?

১৭ সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন নম্বর (BRN) ভৌগোলিক অবস্থানভিত্তিক একটি নম্বর। এর প্রতিটি অংশ থেকে জন্ম নিবন্ধন কোথায় এবং কোন সালে করা হয়েছে, সে সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়।

অংশসংখ্যাকী বোঝায়
জন্মসাল৪জন্মের সাল (যেমন: ২০০১)
জেলা কোড২যে জেলায় জন্ম নিবন্ধন করা হয়েছে
অফিসের ধরন (RMO)১১ = ইউনিয়ন পরিষদ, ২ = পৌরসভা, ৩ = উপজেলা সদরে অবস্থিত ইউনিয়ন পরিষদ (যেখানে পৌরসভা নেই), ৫ = ক্যান্টনমেন্ট, ৯ = সিটি কর্পোরেশন, ০ = দূতাবাস
উপজেলা/শহর কোড২উপজেলা, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন বা দূতাবাস
ইউনিয়ন/ওয়ার্ড কোড৩ইউনিয়ন পরিষদ বা ওয়ার্ড নম্বর
ক্রমিক নম্বর৫আপনার ব্যক্তিগত নিবন্ধনের ক্রমিক নম্বর

উদাহরণ (কাল্পনিক):

২০০১ · ২৬ · ১ · ১২ · ৩৪৫ · ০০১২৩ = ২০০১২৬১১২৩৪৫০০১২৩


তথ্যসূত্র: SESRIC-এ বাংলাদেশ সরকারের উপস্থাপনা (২০১৩); Plan International, বাংলাদেশে ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন: কারিগরি বিশ্লেষণ (২০২১)।

রূপান্তর করা নম্বরটি কাজ না করলে

আপনার জন্ম নিবন্ধনের তথ্য হয়তো কখনো অনলাইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। আপনার পুরোনো জন্ম সনদটি যে কার্যালয়ে জন্ম নিবন্ধন করা হয়েছিল, সেখানে নিয়ে যান। কার্যালয়ের রেজিস্টারে আপনার তথ্য থাকলে, নিবন্ধক সেটি অনলাইনে নিবন্ধন করবেন এবং আপনি একটি নতুন ১৭ সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন নম্বর পাবেন।

বাংলাদেশে জন্ম সনদ কী?

বাংলাদেশে জন্ম সনদ শুধু একটা কাগজ না, এটা হচ্ছে প্রথম অফিসিয়াল ডকুমেন্ট যেটা একজন মানুষকে আইনগতভাবে নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন থেকে এই সনদ দেওয়া হয়।

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪ (২০০৪ সনের ২৯ নং আইন) অনুযায়ী জন্ম সনদে যে তথ্যগুলো থাকে:

  • পুরো নাম, জন্ম তারিখ, জন্মস্থান আর লিঙ্গ
  • বাবা-মায়ের নাম, জাতীয়তা আর স্থায়ী ঠিকানা

প্রতিটা নিবন্ধিত জন্মের জন্য একটা ইউনিক ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নাম্বার (BRN) দেওয়া হয়, আর এই নাম্বার দিয়েই বিভিন্ন সরকারি সিস্টেমে পরিচয় যাচাই করা হয়।

এই আইনটি ২০০৬ সালে কার্যকর হয় এবং ২০১৩ সালে সংশোধন করা হয়। ORGBDR-এর জন্ম নিবন্ধন ম্যানুয়াল (এপ্রিল ২০২৬) অনুযায়ী, BDRIS পোর্টালে ২০১৩ সালের পরে জন্মগ্রহণকারীদের জন্য বাবা-মায়ের জন্ম নিবন্ধন নম্বর প্রয়োজন।

নাম, জন্ম তারিখ, NID বা SMS দিয়ে কি জন্ম নিবন্ধন চেক করা যায়?

না। অফিসিয়াল BDRIS ভেরিফিকেশন সিস্টেমটা ইচ্ছা করেই বেশ কড়া রাখা হয়েছে। অনলাইনে জন্ম নিবন্ধনের তথ্য বের করার একমাত্র উপায় হচ্ছে সঠিক ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নাম্বার (BRN) আর YYYY-MM-DD ফরম্যাটে জন্ম তারিখ একসাথে দেওয়া। এছাড়া অন্য কোনোভাবে সার্চ করার অপশন পোর্টালে নেই।

  • শুধু নাম দিয়ে: সম্ভব না। একই নামে অসংখ্য মানুষ আছে, তাই শুধু নাম দিয়ে সার্চ করলে ভুল আর বিভ্রান্তিকর রেজাল্ট আসবে। এজন্য সিস্টেমে এই সুযোগ রাখা হয়নি।
  • শুধু জন্ম তারিখ দিয়ে: সম্ভব না। জন্ম তারিখের সাথে অবশ্যই ১৭ ডিজিটের নাম্বার দিতে হবে, শুধু জন্ম তারিখ দিয়ে চেক করা যায় না।
  • NID বা ভোটার আইডি দিয়ে: সম্ভব না। NID যাচাই করা হয় সম্পূর্ণ আলাদা একটা সিস্টেম থেকে (নির্বাচন কমিশন), BDRIS জন্ম নিবন্ধন পোর্টাল থেকে না।
  • পাসপোর্ট নাম্বার দিয়ে: সম্ভব না। BDRIS সিস্টেমে পাসপোর্ট নাম্বার দিয়ে সার্চ করার কোনো বক্স নেই।
  • SMS দিয়ে: সম্ভব না। জন্ম নিবন্ধন যাচাইয়ের জন্য সরকারের কোনো অফিসিয়াল SMS সার্ভিস নেই। কেউ যদি SMS দিয়ে অফিসিয়াল “যাচাই” করে দেওয়ার কথা বলে, তাহলে কিন্তু অবশ্যই সতর্ক থাকবেন।

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন যাচাই করা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন যাচাই করলে আপনি কনফার্ম হতে পারবেন যে আপনার জন্ম নিবন্ধনের তথ্য সরকারি ডাটাবেজে ঠিকমতো রেকর্ড করা আছে। এতে করে কোনো ভুল থাকলে সেটা ধরতে পারবেন, আর অফিসিয়াল সিস্টেমে আপনার তথ্য আছে কিনা সেটাও চেক করে নিতে পারবেন।

ভেরিফিকেশন রেজাল্টে কী কী তথ্য দেখায়?

অফিসিয়াল BDRIS পোর্টালে জন্ম নিবন্ধন চেক করলে রেজাল্ট পেজে সরকারের কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ থেকে আপনার পুরো তথ্য দেখায়, আর এতেই কনফার্ম হয়ে যায় সনদটা আসল।

ক্যাটাগরি

যে তথ্যগুলো চেক করতে পারবেন

ব্যক্তিগত তথ্য

বাংলা ও ইংরেজিতে নিবন্ধিত নাম, লিঙ্গ আর জন্ম তারিখ

বাবা-মায়ের তথ্য

বাবা ও মায়ের নাম আর জাতীয়তা (যদি দেখায়)

ঠিকানার তথ্য

জন্মস্থান আর স্থায়ী ঠিকানা (যদি দেখায়)

নিবন্ধনের তথ্য

জন্ম নিবন্ধন নাম্বার (BRN), নিবন্ধনের তারিখ আর নিবন্ধন অফিস (যদি দেখায়)

রেকর্ড আছে কিনা

অফিসিয়াল ডাটাবেজে আপনার জন্ম নিবন্ধনের রেকর্ড আছে কিনা

তথ্যে ভুল আছে কিনা

স্ক্রিনে দেখানো তথ্য, যেমন আপনার নাম বা জন্ম তারিখ, আপনার সনদের সাথে মিলছে কিনা

কোথায় কোথায় জন্ম নিবন্ধন চেক করা দরকার হয়?

বাংলাদেশে জন্ম সনদ একটা গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট, আর বিভিন্ন সরকারি কাজে এটা লাগতে পারে। অফিসিয়াল কাজে ব্যবহার করার আগে জন্ম নিবন্ধন চেক করে নিলে আপনি কনফার্ম হতে পারবেন যে আপনার তথ্য BDRIS ডাটাবেজে আছে, আর সেই তথ্য আপনার সনদের সাথে মিলছে।

নিচে কিছু সাধারণ ক্ষেত্র দেওয়া হলো, যেখানে আপনার জন্ম সনদ লাগতে পারে।

পাসপোর্ট ও বিদেশ যাত্রা

ই-পাসপোর্টের আবেদন: নিবন্ধন আইন অনুযায়ী পাসপোর্ট করতে জন্ম সনদ লাগে। ১৮ বছরের কম বয়সী আবেদনকারীদের জন্য অনলাইনে নিবন্ধিত জন্ম সনদই হচ্ছে প্রধান যাচাইয়ের ডকুমেন্ট।

ভিসা ও বিদেশে যাওয়ার কাগজপত্র: বিদেশি মিশন আর দূতাবাসগুলো কাগজপত্র নেওয়ার আগে প্রায়ই অনলাইনে যাচাইযোগ্য জন্ম সনদ চায়।

জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার নিবন্ধন

NID কার্ড: জাতীয় পরিচয়পত্র করতে বয়সের প্রমাণ হিসেবে জন্ম সনদ ব্যবহার করা হয়।

ভোটার নিবন্ধন: ভোটার তালিকায় নাম তুলতে জন্ম সনদ লাগে।

শিক্ষা

স্কুল ও কলেজে ভর্তি: মাধ্যমিক স্কুলসহ যেকোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে জন্ম সনদ লাগে।

পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন: SSC, HSC সহ অন্যান্য পাবলিক পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশনের জন্যও এটা দরকার হয়।

চাকরি ও ক্যারিয়ার

সরকারি ও বেসরকারি চাকরি: নিবন্ধন আইন অনুযায়ী সরকারি, বেসরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের সময় বয়সের প্রমাণ হিসেবে জন্ম সনদ লাগে।

ফর্মাল সেক্টরে চাকরি: সাধারণভাবে ফর্মাল সেক্টরে চাকরি পেতেও জন্ম সনদ দরকার হয়।

ব্যাংক, বিয়ে ও সম্পত্তি

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা:
অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে জন্ম সনদ প্রয়োজন হয়।

বিয়ের নিবন্ধন: বিয়ে নিবন্ধনের সময় বয়স প্রমাণ করতে জন্ম সনদ লাগে।

জমি রেজিস্ট্রেশন: জমি রেজিস্ট্রেশন আর সম্পত্তি কেনাবেচার জন্য জন্ম সনদ দরকার হয়।

ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির রেজিস্ট্রেশন: ড্রাইভিং লাইসেন্স আর গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের জন্য বয়সের প্রমাণ হিসেবে জন্ম সনদ কাজে লাগে।

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন চেক করা কি নিরাপদ?

হ্যাঁ, অফিসিয়াল BDRIS ভেরিফিকেশন পোর্টাল ব্যবহার করলে অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন চেক করা একদম নিরাপদ। যেসব আনঅফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা অ্যাপ আপনার ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নাম্বার (BRN) বা অন্য কোনো ব্যক্তিগত তথ্য চায়, সেগুলো কিন্তু এড়িয়ে চলবেন। তথ্য দেওয়ার আগে সবসময় দেখে নিবেন আপনি অফিসিয়াল সরকারি ওয়েবসাইটেই আছেন কিনা।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য জন্ম নিবন্ধন চেক

বিদেশে থাকা বাংলাদেশিরাও অনলাইন জন্ম নিবন্ধন চেক সার্ভিস দিয়ে তাদের নিবন্ধনের তথ্য যাচাই করতে পারবেন। তবে এজন্য তাদের জন্ম নিবন্ধন বাংলাদেশ সরকারের ডাটাবেজে থাকতে হবে, আর হাতে ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নাম্বার (BRN) থাকতে হবে।

  • বিদেশে জন্ম নেওয়া শিশু: বাংলাদেশি বাবা-মা অফিসিয়াল BDRIS প্রসেসের মাধ্যমে তাদের সন্তানের জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করতে পারবেন। সাথে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাসের নিয়মকানুনও ফলো করতে হবে।
  • জন্ম সনদ নেই এমন প্রাপ্তবয়স্ক: আপনি যদি বাংলাদেশে জন্ম নিয়ে থাকেন কিন্তু কখনো নিবন্ধন না করে থাকেন, তাহলে কীভাবে আবেদন করবেন সেটা জানতে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাস বা আপনার এলাকার নিবন্ধন অফিসে যোগাযোগ করেন।
  • অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন চেক: ডাটাবেজে আপনার নিবন্ধন চলে আসলে, অফিসিয়াল BDRIS ভেরিফিকেশন পোর্টালে আপনার ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নাম্বার আর জন্ম তারিখ দিয়ে চেক করে নিতে পারবেন।

বিদেশ থেকে নিবন্ধন করতে চাইলে অফিসিয়াল BDRIS আবেদন পোর্টালে চলে যান, আর আপনার দেশের বাংলাদেশ মিশনে কী কী কাগজপত্র লাগবে, ফি কত আর কীভাবে জমা দিতে হবে সেটা দেখে নিন।

জন্ম নিবন্ধন চেকের সাধারণ সমস্যা ও সমাধান

অনলাইনে যদি আপনার জন্ম নিবন্ধন চেক করতে না পারেন, তাহলে নিচে আপনার সমস্যাটা খুঁজে বের করেন আর দেওয়া সমাধানটা ফলো করেন।

সমস্যাসম্ভাব্য কারণযেভাবে সমাধান করবেন
জন্ম নিবন্ধনের রেকর্ড পাওয়া যাচ্ছে নাজন্ম নিবন্ধন নাম্বার বা জন্ম তারিখ ভুল হতে পারে, অথবা আপনার তথ্য অনলাইন ডাটাবেজে নাও থাকতে পারে।আপনার ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নাম্বার আর জন্ম তারিখটা আরেকবার চেক করেন। তারপরেও সমস্যা থাকলে আপনার এলাকার জন্ম নিবন্ধন অফিসে যোগাযোগ করেন।
জন্ম তারিখ মিলছে নাআপনি যে তারিখ দিয়েছেন সেটা BDRIS ডাটাবেজে থাকা তারিখের সাথে নাও মিলতে পারে।আপনার সনদে থাকা তারিখটা দেখে পোর্টালে যে ফরম্যাট চাইছে সেভাবে দেন। ডাটাবেজেই ভুল থাকলে সংশোধনের প্রসেস সম্পর্কে আপনার নিবন্ধন অফিসে জিজ্ঞেস করেন।
পুরাতন ১৩, ১৫ বা ১৬ ডিজিটের নাম্বার কাজ করছে নাঅনলাইন ভেরিফিকেশন পোর্টালে ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নাম্বার (BRN) লাগে।আপনার সঠিক ১৭ ডিজিটের নাম্বারটা কনফার্ম করতে সংশ্লিষ্ট জন্ম নিবন্ধন অফিসে যোগাযোগ করেন। অফিসিয়াল নির্দেশনা ছাড়া নিজে থেকে কোনো ডিজিট যোগ করবেন না বা নাম্বার পরিবর্তন করবেন না।
নতুন নিবন্ধন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে নাআপনার নিবন্ধন হয়তো এখনো ভেরিফিকেশন ডাটাবেজে আসেনি, অথবা দেওয়া তথ্য ভুল হতে পারে।আপনার আবেদনের রসিদ আর নিবন্ধনের তথ্যগুলো চেক করেন। তারপরেও তথ্য না আসলে যে অফিস আপনার আবেদনটা দেখছে সেখানে যোগাযোগ করেন।
জন্ম সনদের তথ্য ভুলআপনার নাম, জন্ম তারিখ, বাবা-মায়ের তথ্য বা অন্য কোনো তথ্য ভুলভাবে রেকর্ড করা থাকতে পারে।আপনার এলাকার জন্ম নিবন্ধন অফিসে যোগাযোগ করে জন্ম সনদ সংশোধনের অফিসিয়াল প্রসেস সম্পর্কে জেনে নিন।
QR কোড স্ক্যান হচ্ছে নাQR কোডটা নষ্ট, ঝাপসা বা ক্যামেরায় পড়তে সমস্যা হতে পারে।অন্য কোনো QR স্ক্যানার দিয়ে স্ক্যান করে দেখেন। চাইলে অফিসিয়াল ভেরিফিকেশন পোর্টালে আপনার জন্ম নিবন্ধন নাম্বার আর জন্ম তারিখ দিয়েও চেক করতে পারবেন।
BDRIS ওয়েবসাইট ওপেন হচ্ছে নাওয়েবসাইটে সাময়িক টেকনিক্যাল সমস্যা বা মেইনটেন্যান্সের কাজ চলতে পারে।কিছুক্ষণ পরে আবার চেষ্টা করেন, আর সার্ভিসের আপডেট জানতে BDRIS-এর অফিসিয়াল ঘোষণাগুলো দেখে নিন।
পুরাতন বা হাতে লেখা জন্ম সনদ অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে নাতথ্যটা হয়তো অনলাইন ডাটাবেজে নেই।
আপনার জন্ম সনদটি যে কার্যালয় থেকে ইস্যু করা হয়েছিল, সেখানে নিয়ে যান। তাদের রেজিস্টারে আপনার জন্ম নিবন্ধনের তথ্য থাকলে, নিবন্ধক সেটি অনলাইনে নিবন্ধন করে দেবেন এবং আপনি একটি নতুন ১৭ সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন নম্বর পাবেন।

জন্ম নিবন্ধন সংক্রান্ত যোগাযোগ

জন্ম নিবন্ধন সংক্রান্ত সহায়তার জন্য আপনার সমস্যার ধরন অনুযায়ী নিচের যোগাযোগের মাধ্যমটি বেছে নিন।

☎

সাধারণ সহায়তা

জন্ম নিবন্ধন সংক্রান্ত সাধারণ তথ্য বা সহায়তার জন্য সরকারি কল সেন্টারে যোগাযোগ করুন।

১৬১৫২ নম্বরে কল করুন
✉

অনলাইন সিস্টেমের সমস্যা

BDRIS সফটওয়্যারে লগইন, আবেদন বা অন্যান্য প্রযুক্তিগত সমস্যা হলে ইমেইল করুন।

প্রযুক্তিগত সহায়তা
▤

অভিযোগ ও সেবা সংক্রান্ত সমস্যা

নিবন্ধন কার্যালয় থেকে সেবা পেতে সমস্যার সম্মুখীন হলে বিস্তারিত লিখে অভিযোগ জানান।

অভিযোগ পাঠান
অন্যান্য কর্মকর্তার যোগাযোগের তথ্য দেখুন

নাগরিক সহায়তা

ইমেইল: [email protected]

উপ-রেজিস্ট্রার জেনারেল (আইসিটি)

অফিস: +880 2 223355884

ইমেইল: [email protected]

রেজিস্ট্রার জেনারেল (অতিরিক্ত দায়িত্ব)

অফিস: +880 2 223386606

ইমেইল: [email protected]

সহকারী রেজিস্ট্রার জেনারেল (আইসিটি ও উন্নয়ন)

অফিস: +880 2 41052265

মোবাইল: 01886-404232

ইমেইল: [email protected]

সহকারী অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তা

অফিস: +880 2 41052263

মোবাইল: 01314-136832

ইমেইল: [email protected]

বিকল্প অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তা

অফিস: 02-55100872

মোবাইল: 01716-147056

ইমেইল: [email protected]

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যালয়

ঠিকানা: পরিবহন পুল ভবন, ৯ম তলা, সচিবালয় লিংক রোড, ঢাকা, বাংলাদেশ।

সরকারি ওয়েবসাইট: orgbdr.gov.bd ↗

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

জন্ম নিবন্ধন চেক করতে কতক্ষণ লাগে?

BDRIS পোর্টাল ঠিকমতো কাজ করলে আর আপনার নিবন্ধনের তথ্য ডাটাবেজে থাকলে, অনলাইনে যাচাই করতে সাধারণত মাত্র কয়েক সেকেন্ড লাগে।

অন্য জেলায় নিবন্ধিত জন্ম সনদ কি চেক করা যায়?

হ্যাঁ। BDRIS হচ্ছে একটাই জাতীয় ডাটাবেজ, তাই যেকোনো ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশন থেকেই নিবন্ধন হোক না কেন, বাংলাদেশের যেকোনো জায়গা থেকে, এমনকি বিদেশ থেকেও যেকোনো ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন চেক করতে পারবেন।

জন্ম নিবন্ধন চেক করার কোনো অফিসিয়াল অ্যাপ আছে কি?

না, রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় থেকে জন্ম নিবন্ধন চেক করার কোনো অফিসিয়াল অ্যাপ নেই।

জন্ম নিবন্ধন চেক করা কি ফ্রি?

হ্যাঁ, অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন যাচাই করা একদম ফ্রি। BDRIS পোর্টাল থেকে কোনো ভেরিফিকেশন ফি ছাড়াই আপনার জন্ম নিবন্ধনের তথ্য চেক করতে পারবেন। তবে নতুন নিবন্ধন, তথ্য সংশোধন বা রিপ্রিন্টের মতো অন্যান্য সার্ভিসের জন্য আলাদা ফি লাগতে পারে।

বাংলাদেশে জন্ম সনদ করতে কত টাকা লাগে?

জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে জন্ম নিবন্ধন করলে কোনো ফি লাগে না। জন্মের ৪৬ দিন থেকে ৫ বছর বয়সের মধ্যে নিবন্ধন করতে ২৫ টাকা এবং ৫ বছরের বেশি বয়স হলে ৫০ টাকা ফি দিতে হয়।

বাংলা ও ইংরেজিতে জন্ম সনদের একটি কপির জন্য ৫০ টাকা লাগে। জন্মতারিখ সংশোধন করতে ১০০ টাকা এবং বাবা বা মায়ের নাম কিংবা ঠিকানার মতো অন্যান্য তথ্য সংশোধন করতে ৫০ টাকা লাগে।

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ২১(৪) অনুযায়ী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, অসহায় ব্যক্তি এবং এতিমদের ক্ষেত্রে নিবন্ধক ফি মওকুফ করতে পারেন।

BRN আর UBRN-এর মধ্যে পার্থক্য কী?

আসলে দুইটা দিয়েই একই ১৭ ডিজিটের নাম্বার বোঝায়। BRN মানে Birth Registration Number, আর UBRN (Unique Birth Registration Number) হচ্ছে একই বক্সের জন্য BDRIS পোর্টালে ব্যবহার করা নাম।

ক্যাপচা ছাড়া কি জন্ম নিবন্ধন চেক করা যায়?

না। everify.bdris.gov.bd-তে ক্যাপচা হচ্ছে বাধ্যতামূলক একটা সিকিউরিটি ধাপ। ক্যাপচা পড়তে কষ্ট হলে রিফ্রেশ করেন, নতুন একটা চলে আসবে।

জন্ম নিবন্ধনের আবেদনের স্ট্যাটাস কীভাবে চেক করবো?

bdris.gov.bd-তে আবেদন সাবমিট করলে আপনি একটা আবেদন নাম্বার পাবেন, এই নাম্বার দিয়েই আপনার নিবন্ধনের স্ট্যাটাস চেক করতে পারবেন। প্রিন্ট করা আবেদন ফর্মটা কিন্তু যত্ন করে রেখে দিবেন, কারণ এতেই নাম্বারটা লেখা থাকে।

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন কীভাবে বাতিল করবো?

আপনার যদি একাধিক অনলাইন জন্ম নিবন্ধন থাকে, তাহলে আপনি যেটি ব্যবহার করেন (যেমন, আপনার NID বা পাসপোর্টে), সেটি রেখে বাকিগুলো বাতিল করতে পারেন। যে রেজিস্ট্রার অফিসে আপনার জন্ম নিবন্ধন করেছিলেন, সেখানে যান এবং যে জন্ম নিবন্ধন সনদগুলো বাতিল করতে চান, সেগুলো সঙ্গে নিয়ে যান। এরপর রেজিস্ট্রার BDRIS-এর মাধ্যমে বাতিলের আবেদন জমা দেবেন। চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় এবং এ জন্য একটি ফি প্রযোজ্য।

আপনার আবেদনটি এখনও অনুমোদিত না হলে, সেটি প্রত্যাহার করার জন্য সরাসরি আপনার রেজিস্ট্রার অফিসে যোগাযোগ করুন।

OTP না পেলে কি সংশোধনের আবেদন করা যায়?

বাংলাদেশের ভেতর থেকে আবেদন করলে OTP আপনার মোবাইল নাম্বারে যায়, আর বিদেশে দূতাবাসের মাধ্যমে আবেদন করলে ইমেইলে যায়। OTP না পেলে আপনার ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশন অফিসে চলে যান, তাদেরকে আপনার হয়ে সংশোধনের আবেদনটা সাবমিট করে দিতে বলেন।

অনলাইনে আমার তথ্য বাংলা আর ইংরেজি দুইভাবেই দেখাচ্ছে, কিন্তু কাগজের কপিটা শুধু বাংলায়। সংশোধন করতে হবে কি?

না। অনলাইনে যদি আপনার তথ্য ইংরেজিতে দেখায়, তাহলে সংশোধনের দরকার নেই। জাস্ট আপনার রেজিস্ট্রার অফিস থেকে সনদের একটা নতুন কপি চেয়ে নিন, সেখানে বাংলা আর ইংরেজি দুইটাই থাকতে পারে। শুধু ইংরেজি তথ্য না থাকলে বা ভুল থাকলেই সংশোধন করতে হবে।

নিবন্ধন বা সংশোধনের কতদিন পরে অনলাইনে তথ্য দেখাবে?

রেজিস্ট্রার অফিস আবেদন অনুমোদন করলেই everify.bdris.gov.bd-তে আপনার তথ্য চলে আসবে। নতুন নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের একজন ওয়ার্ড সচিবের মতে, সনদ পেতে ৭ থেকে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে। তবে এ বিষয়ে কোনো অফিসিয়াল সময়সীমা প্রকাশ করা হয়নি।

উপসংহার

জন্ম সনদ শুধু একটা ডকুমেন্ট না, এটা হচ্ছে একজন বাংলাদেশি নাগরিকের সব আইনগত অধিকারের ভিত্তি, আর অনলাইন যাচাই দিয়েই প্রমাণ হয় সনদটা আসল। everify.bdris.gov.bd-তে আপনার ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নাম্বার আর জন্ম তারিখ দিয়ে সাথে সাথেই কনফার্ম হতে পারবেন সনদটা আসল কিনা আর জাতীয় BDRIS ডাটাবেজের সাথে মিলছে কিনা। আর এটা একদম ফ্রি, যতবার দরকার ততবারই চেক করতে পারবেন।

আপনার তথ্য না দেখালে টেনশন করবেন না, আর নতুন করে ডুপ্লিকেট নিবন্ধনও করবেন না। আগে আপনার নাম্বার আর তারিখের ফরম্যাটটা চেক করেন, কিছুক্ষণ পরে আবার চেষ্টা করেন, তারপরেও সমস্যা থাকলে যে অফিস থেকে জন্ম নিবন্ধন করা হয়েছিল সেখানে যোগাযোগ করেন। আর নবজাতকের নিবন্ধন, পুরাতন ভুল সংশোধন বা হারানো সনদ ফিরে পাওয়া, এই সবকিছুর পুরো প্রসেসই কিন্তু bdris.gov.bd থেকে অনলাইনে করতে পারবেন।